বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। এ-ছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করে থাকে। যে কোন ধরনের বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ও জাতি গঠনে সেনাবাহিনী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।
ওয়েবসাইট: www.army.mil.bd
বাংলাদেশ নৌবাহিনী: তদানীন্তন পাকিস্তান নৌবাহিনী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে।স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালের ১০ ডিসেম্বর ১৭ জন অফিসার, ৪১৭ জন নৌসেনা এবং ২টি পেট্রল ক্রাফট নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমুদ্রসীমার রক্ষক। এ-ছাড়া উপকূলীয় এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী সাইক্লোন, টর্নেডোর মত দুর্যোগকালীন এবং নৌপথে বা সমুদ্রপথে মাদক পাচার রোধ ও চোরাচালান রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
ওয়েবসাইট: www.bangladeshnavy.org
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী: মহান মুক্তিযুদ্ধকালে ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কিছু সামরিক ও বেসামরিক বিমান নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। আকাশপথে হামলা মোকাবেলা বিমানবাহিনীর প্রধান কাজ। বন্যা, ঘূর্ণীঝড়সহ যে কোন ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিমানবাহিনী হেলিকপ্টার সহায়তা প্রদান করে।
ওয়েবসাইট: www.baf.mil.bd
বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো): এ সংস্থার প্রধান কাজ হচ্ছে মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন সংক্রান্ত পলিসি প্রণয়ন, পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।
ওয়েবসাইট: www.sparrso.gov.bd
সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তর (সাভূসে): এ সংস্থার প্রধান কাজ হচ্ছে সামরিক বাহিনীর ভূমিসংক্রান্ত যাবতীয় কাজ।
কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্স (সিজিডিএফ): এ সংস্থার প্রধান কাজ হচ্ছে প্রতিরক্ষা মণ্ত্রণালয়, সামরিক বাহিনী ও আন্ত:বাহিনী সংস্থাসমূহকে অর্থ বিষয়ে পরামর্শ প্রদান ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি): এ সংস্থার প্রধান কাজ হচ্ছে আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত গ্রহণ ও বিতরণ।
বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর: এ অধিদপ্তরের প্রধান কাজ হচ্ছে মিয়ানমার ও ভারতের মিজোরাম সীমান্তে জরিপ এবং আকাশ আলোকচিত্র গ্রহণ।
সাইফার পরিদপ্তর: এ সংস্থার প্রধান কাজ হচ্ছে সাইফার ডকুমেন্ট প্রস্তুত ও প্রশিক্ষণ প্রদান।
আন্তঃবাহিনী সংস্থাসমূহ:
আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ (এএফএমসি): আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞান ও চিকিৎসক তৈরি করা।
মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি ): সামরিক বাহিনীর তরুণ সদস্যদের বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ প্রকৌশল শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করা ।
সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তর (ডিজিএমএস): সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) পরিচালনাসহ সামরিক বাহিনীর সব ধরনের চিকিৎসা সেবা মনিটর করা।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড (বিএএএফবি): সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর): সামরিক বাহিনীর পক্ষে জনসংযোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টগুলোর সংবাদ ও তথ্যসহ প্রয়োজনে প্রেস ব্রিফিং করা।
আন্তঃবাহিনী নির্বাচন পর্ষদ (আইএসএসবি): সামরিক বাহিনীর জন্য উপযুক্ত অফিসার বাছাই করা।
প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তর (ডিজিডিপি): সামরিক বাহিনী এবং আন্তঃবাহিনী সংস্থার ক্রয়সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি): দেশি - বিদেশি সামরিক বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদান।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) অধিদপ্তর: তরুণ ক্যাডেটদের নেতৃত্বের বিকাশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই): জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে যথাযথ পরামর্শ প্রদান।
আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল ইন্সটিটিউট (এএফএমআই): সামরিক সদস্যদের চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান।
আর্মড ফোর্সেস ইন্সটিটিউট অব প্যাথলজি (এএফআইপি): প্যাথলজিক্যাল ট্রেনিং পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়।
ডিফেন্স সার্ভিসেস কমাণ্ড ও স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি): সামরিক বাহিনীর অফিসারদের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি): জাতীয় নিরাপত্তা, যুদ্ধ-কৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে উন্নতমানের শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা (বিওএফ): যুদ্ধের সাজ-সরঞ্জাম এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরি করা।
মিনিস্ট্রি অব ডিফেন্স কন্সটেবুলারী (এমওডিসি): প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন স্থাপনায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন।
প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয় (সিএও): সামরিক বাহিনীর সিভিল অফিসার এবং উচ্চতর ফরমেশনের কর্মচারীদের সংস্থাপনসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন। |